● JUST IN

QUICK10 FEED

Your Top 10 Daily Briefing • Continuously Updated

STORY 1 OF 10
INDIA

ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের ঘোষণা

কলকাতা, ৭ জুন: আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানব সেবাকে পাথেয় করে ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের এক অভূত...

DI Desk
DI DeskEditorial
June 8, 2026
ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের ঘোষণা

ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের ঘোষণা

কলকাতা, ৭ জুন: আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানব সেবাকে পাথেয় করে ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের এক অভূতপূর্ব ঘোষণা করা হলো। রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়...

ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মূল ঘোষণা

  • পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় আয়োজন: আগামী ২১ জুন বিশ্ব যোগ ও সঙ্গীত দিবসে বাংলার প্রতিটি শাখায় সহজ ক্রিয়া যোগ, শ্রী নাম ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিবির করা হবে।

  • নীতি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন: আগামী প্রজন্মকে রামায়ণ, মহাভারত, উপনিষদ ও গীতার আলোকে আলোকিত করতে প্রতি শাখায় নীতি শিক্ষাকেন্দ্র গড়া হবে।

  • তুলসী চারা বিতরণ: এই বিশেষ দিনটি থেকে প্রতি বাড়িতে তুলসী গাছের চারা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

  • Advertisement

    Democratic Indians Premium

    ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা

    এদিনের মর্যাদাপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায়ের আচার্য ও প্রেসিডেন্ট এবং ওঙ্কারনাথ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা কিংকর বিঠঠল রামানুজ মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিংকর জয় পদ্মশ্রী বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউল, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সন্তুর বাদক পদ্মশ্রী তরুণ ভট্টাচার্য্য এবং বিশিষ্ট অধ্যাপক লক্ষ্মীনারায়ণ সৎপতি। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের এই দিকপালদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

    মানব সেবা ও জগৎ কল্যাণে ওঙ্কারনাথ মিশন

    সাংবাদিক সম্মেলনে ওঙ্কারনাথ মিশনের সভাপতি কিংকর প্রিয়নাথ মিশনের মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

    "বিশ্বজুড়ে অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায় ও ওঙ্কারনাথ মিশনের যে সুবিশাল কর্মকান্ড, তার প্রাণকেন্দ্র হলো গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে শ্রী ভগবান ওঙ্কারনাথ দেব প্রতিষ্ঠিত মহামিলন মঠ। বর্তমানে ভারতবর্ষে ১২০ টি আশ্রম কেন্দ্র ছড়িয়ে রয়েছে। যার প্রধান কাজ শ্রী শ্রী ওঙ্কারনাথ ভাবতরঙ্গ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ ওঙ্কারনাথ মিশন শাখা নিরন্তর লোক কল্যাণে কাজ করে চলেছে।"

    তিনি আরও যোগ করেন যে, আত্মার স্বরূপ চেনা ও মোক্ষ লাভই মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। শ্রী শ্রী ওঙ্কারনাথ দেবের শিক্ষায় শিক্ষিত তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উত্তরসাধক কিংকর বিঠঠল রামানুজ জী মহারাজ এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন মানব সেবা ও জগৎ কল্যাণ। যা আজ ‘বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়’ মন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। শাস্ত্রের আধারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানই এই মিশনের মূল ভিত্তি।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের প্রস্তুতি

    ওঙ্কারনাথ মিশন শিক্ষক সেবক সংঘের আহবায়ক সৌরভ হালদার আগামী ২১ জুনের কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ওঙ্কারনাথ মিশনের বিভিন্ন বিভাগ এবার একত্রিত ভাবে কাজ করছে। সনাতন ধর্মের স্তম্ভস্বরূপ শ্রী শ্রী ঠাকুরের আদর্শ ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে আগামী ২১ জুন বিশ্ব যোগ ও সঙ্গীত দিবসে বাংলার তিরিশ হাজার শাখায় সহজ ক্রিয়া যোগ, শ্রী নাম ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিবিরের আয়োজন করা হবে।

    যুব সমাজকে সনাতন চেতনায় ঋদ্ধ করার আহ্বান

    ওঙ্কারনাথ মিশনের সংগঠনের আহবায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বাংলার যুব সমাজকে সনাতন চেতনায় ঋদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস কেন্দ্রীয় ভাবে মহামিলন মঠে আয়োজিত হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শাখাকে ইতিমধ্যেই সূচিত করা হয়েছে যাতে সর্বত্র এই দিনটি সমাদরে পালিত হয়।

    এদিন থেকে দুটি বিশেষ সামাজিক ও আধ্যাত্মিক প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়:

    • তুলসী চারা বিতরণ: এই বিশেষ দিনটি থেকে প্রতি বাড়িতে তুলসী গাছের চারা পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প নেওয়া হয়েছে।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

  • নীতি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন: প্রত্যেক শাখা ভিত্তিক নীতি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

  • সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, এই কর্মযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী প্রজন্মকে রামায়ণ, মহাভারত, উপনিষদ ও গীতার আলোকে আলোকিত করা। ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে চরিত্র গঠনের মাধ্যমে তাঁদের আত্ম অনুসন্ধানের রাস্তায় ফিরিয়ে আনাই ওঙ্কারনাথ মিশনের প্রধান লক্ষ্য।

    SHARE STORY
    STORY 2 OF 10
    HOME

    ভারতের সবুজ রূপান্তর: পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের এক যুগান্তকারী সাফল্য

    নয়াদিল্লি: জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় যখন বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ভারত। বিগত ১২ বছরে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    June 4, 2026
    ভারতের সবুজ রূপান্তর: পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের এক যুগান্তকারী সাফল্য

    ভারতের সবুজ রূপান্তর: পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের এক যুগান্তকারী সাফল্য

    নয়াদিল্লি: জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় যখন বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ভারত। বিগত ১২ বছরে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণ এবং তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে এক অভূতপূর্ব ভারতের সবুজ রূপান্তর বা India's Green Transformation সম্পন্ন হয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকতার নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই রূপান্তরের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে তিনটি স্তম্ভের ওপর— ‘বিশ্বাস, নির্মাণ এবং জনকল্যাণ’। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেও কীভাবে পরিবেশের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে তারই এক সফল প্রতিচ্ছবি।

    কেন্দ্রীয় সরকার সুত্রে পাওয়া সাম্প্রতিকতম প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বনাঞ্চল বৃদ্ধি, নদী পুনরুজ্জীবন, এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত নিরাপত্তা শুধুমাত্র দেশের ভেতরের ইকোসিস্টেমকেই শক্তিশালী করেনি, বরং আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ভারতের সবুজ রূপান্তর ও বনাঞ্চলের অভাবনীয় বৃদ্ধি

    ইন্ডিয়া স্টেট অব ফরেস্ট রিপোর্ট (ISFR) ২০২৩-এর পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে এই সাফল্যের খতিয়ান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বর্তমানে ভারতের মোট বন ও বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.২৭ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারে, যা দেশের মোট ভৌগোলিক আয়তনের ২৫.১৭ শতাংশ। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে বনভূমি ২১.৭৬ শতাংশ এবং বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকা ৩.৪১ শতাংশ।এই বিশাল বনাঞ্চল বর্তমানে ৩০.৪৩ বিলিয়ন টন কার্বন স্টক ধরে রাখতে সক্ষম, যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের অন্যতম বড় হাতিয়ার। এছাড়া ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ‘এক পেড মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) অভিযানের আওতায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬২.৪ কোটিরও বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে, যা এই আন্দোলনকে একটি গণআন্দোলনে রূপ দিয়েছে।

    নমামি গঙ্গে এবং নদী অববাহিকার পুনরুজ্জীবন

    জল দূষণ প্রতিরোধ এবং নদীর বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ২০১৪ সালের জুন মাসে চালু হয়েছিল ফ্ল্যাগশিপ মিশন ‘নমামি গঙ্গে’। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে ৪৩,০৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৫টি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা গেছে শিল্পজাত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে। ২০১৭ সালে যেখানে গঙ্গায় বায়ো-কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (BOD) বা শিল্পজাত দূষণের মাত্রা ছিল প্রতিদিন ২৬ টন (26 TPD), ২০২৪ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০.৭৫ টনে (10.75 TPD)। নদী পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে জলজ জীববৈচিত্র্যও। সমীক্ষায় গঙ্গা অববাহিকায় ৩,০৩৭টি ঘড়িয়াল এবং ৮,৫০৭ কিলোমিটার নদী এলাকা জুড়ে প্রায় ৬,৩২৭টি গাঙ্গেয় ডলফিনের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক রামসার সাইটের তালিকায় ভারতের জয়যাত্রা

    আর্দ্রভূমি বা জলাভূমিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা চলে। ২০১৩ সালে ‘ন্যাশনাল প্ল্যান ফর কনজারভেশন অব অ্যাকুয়াটিক ইকোসিস্টেম’ (NPCA) চালুর পর থেকে জলাভূমি সংরক্ষণে ভারত অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে ভারতে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন ‘রামসার সাইট’ (Ramsar Sites) ছিল মাত্র ২৬টি, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯টিতে।

    একইভাবে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের সুরক্ষায় ‘মিষ্টি’ (MISHTI) প্রকল্পের মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ অরণ্য পুনর্নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত হয়েছে। ফলে ২০১৩ সালের ৪,৬২৮ বর্গ কিমির ম্যানগ্রোভ এলাকা ২০২৩ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৯৯২ বর্গ কিমিতে পৌঁছেছে।

    বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রজাতি রক্ষা

    যুগান্তকারী এই ভারতের সবুজ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এক সোনালী অধ্যায় যোগ করেছে।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    প্রজেক্ট টাইগার: অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশে বাঘের সংখ্যা যেখানে ছিল ২,২২৬টি, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৬৮২টিতে। ভারত এখন বিশ্বের মোট বাঘের ৭০ শতাংশেরই আশ্রয়স্থল।

    প্রজেক্ট চিতাবাঘ: ২০১৮ সালের ১২,৮৫২টি চিতাবাঘের সংখ্যা ২০২২ সালের গণনায় বেড়ে হয়েছে ১৩,৮৭৪টি।

    প্রজেক্ট লায়ন ও চিতা: এশিয়াটিক লায়নের সংখ্যা ২০১৫ সালের ৫২৩ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮৯১ ছুঁয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকান মহাদেশ থেকে চিতা এনে মধ্য ভারতের চারণভূমিতে পুনর্বাসনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর দেশে এখন চিতার সংখ্যা ৫৩টি।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি

    ২০১৪ সালে ভারতে উৎপাদিত কঠিন বর্জ্যের মাত্র ১৭ শতাংশ বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। ২০২৪ সালের খতিয়ান বলছে, সেই প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ শতাংশে। ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি’ (EPR) কাঠামোর মাধ্যমে প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য, ব্যাটারি এবং পুরনো টায়ার রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে ৪,৫৭৪টি নিবন্ধিত রিসাইক্লিং ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় ৪১৭.৫৭ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়েছে।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    বিশ্বমঞ্চে ভারতের পরিবেশ কূটনীতি ও জলবায়ু নেতৃত্ব

    ভারত কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই পরিবেশ রক্ষা করছে না, বরং গ্লোবাল সাউথ তথা সমগ্র বিশ্বের জলবায়ু আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্যারিস চুক্তির আওতায় নির্ধারিত নির্গমন তীব্রতা (Emissions Intensity) ৩৩-৩৫ শতাংশ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা সময়সীমার ১১ বছর আগেই ভারত অর্জন করে ফেলেছে।

    আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA), ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড (OSOWOG), মিশন লাইফ (Mission LiFE), এবং ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনে গৃহীত ‘গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্যাক্ট’ প্রমাণ করে যে, পরিবেশগত কূটনীতিতে ভারত আজ অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ‘বিকাশ’ এবং ‘পরিবেশ সুরক্ষা’ যে একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, ১২ বছরের এই খতিয়ান তারই অকাট্য প্রমাণ। ‘বিকশিত ভারত’-এর পথ যে টেকসই উন্নয়নের হাত ধরেই এগোচ্ছে, তা আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    SHARE STORY
    STORY 3 OF 10
    INDIA

    কৃষি মন্ত্রীদের ঐতিহাসিক বৈঠক: শুরু ক্ষেত বাঁচাও অভিযান

    নয়াদিল্লি, ৩০ মে ২০২৬: ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো । দেশের ২২টি রাজ্যের কৃষি মন্ত্রীরা এবার দিল্লির ঐতিহ্যবাহী পুসা ক্যাম্পাস...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 30, 2026
    কৃষি মন্ত্রীদের ঐতিহাসিক বৈঠক: শুরু ক্ষেত বাঁচাও অভিযান

    কৃষি মন্ত্রীদের ঐতিহাসিক বৈঠক: শুরু ক্ষেত বাঁচাও অভিযান

    নয়াদিল্লি, ৩০ মে ২০২৬: ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো । দেশের ২২টি রাজ্যের কৃষি মন্ত্রীরা এবার দিল্লির ঐতিহ্যবাহী পুসা ক্যাম্পাসে আয়োজিত দু-দিনের 'জাতীয় খরিফ সম্মেলন ২০২৬' (National Kharif Conference 2026)-এর মঞ্চে একত্রিত হয়েছেন । গত ২৮ ও ২৯ মে অনুষ্ঠিত এই মেগা সম্মেলনে শুধুমাত্র রুটিন প্রশাসনিক আলোচনা বা পর্যালোচনা নয়, বরং দেশের কৃষকদের ভাগ্যবদল এবং সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে এক যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে । কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান'

    কর্মকর্তাদের সাথে সাধারণ আসনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

    সম্মেলনের প্রথম দিন থেকেই এক ভিন্ন ইতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান নিজের উদ্বোধনী বক্তব্য শেষ করে কোনো বিশেষ মঞ্চে না বসে, হলের একদম শেষ সারিতে গিয়ে সাধারণ প্রতিনিধিদের সাথে বসে দীর্ঘ আলোচনা শোনেন । কর্মকর্তাদের গুরুত্ব দিতে এবং তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে সরাসরি অনুধাবন করতেই তাঁর এই পদক্ষেপ । দ্বিতীয় দিনে রাজ্যগুলোর কৃষি মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই আলোচনা এক চূড়ান্ত নীতিগত অঙ্গীকারের রূপ নেয় ।

    ক্ষেত বাঁচাও অভিযান: ভবিষ্যৎ সুরক্ষার নতুন জাতীয় মিশন

    "ক্ষেত বাঁচানো মানেই দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচানো"— এই স্লোগানকে সামনে রেখেই দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে ক্ষেত বাঁচাও অভিযান । কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কৃষিজমি রক্ষা করার অর্থ কেবল উৎপাদন বাড়ানো নয়; এটি আমাদের পরিবেশ, মাটি এবং আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত করার এক জাতীয় দায়িত্ব ।

    এই অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    ভারসাম্যপূর্ণ সার ব্যবহার: রাসায়নিক সার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এই অভিযানের উদ্দেশ্য নয়, বরং বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিযুক্ত উপায়ে সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা ।

    যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস: এই মিশনকে সফল করতে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলো (KVK) যৌথভাবে কাজ করবে ।

    কন্ট্রোল রুম ও মনিটরিং: অভিযানটিকে কেবল খাতা-কলমে বা আবেদনে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট মনিটরিং সিস্টেম ও ডেডিকেটেড কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে ।

    নীতি নির্ধারণে দৃষ্টান্ত: নিজেদের জমিতে প্রাকৃতিক চাষ করবেন মন্ত্রীরা

    এই সম্মেলনের অন্যতম বড় এবং বাস্তবসম্মত আউটপুট হলো— উপস্থিত ২২টি রাজ্যের কৃষি মন্ত্রীরা কেবল নীতিগত স্তরে নয়, বরং নিজেদের ব্যক্তিগত কৃষিজমিতেও প্রাকৃতিক চাষ (Natural Farming) করার অঙ্গীকার করেছেন । যেহেতু বেশিরভাগ কৃষি মন্ত্রীই ব্যক্তিগতভাবে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত, তাই এই সিদ্ধান্ত দেশের সাধারণ কৃষকদের মনে এক বিশাল আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা জোগাবে ।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    এই প্রসঙ্গে গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত সম্মেলনে অংশ নিয়ে গুজরাট মডেলের সফল অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং দেশজুড়ে প্রাকৃতিক চাষের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দেন ।

    ডাল ও তৈলবীজে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য

    খরিফ ২০২৬-এর পরিকল্পনাকে এবার শুধু মৌসুমী প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না । দেশের মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ডাল (Pulses) ও তৈলবীজ (Oilseeds) উৎপাদনে ভারতকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর করে তোলা এবং চাষের খরচ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এই নতুন কৃষি দর্শনের মূল লক্ষ্য ।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সমস্ত রাজ্য সরকারকে প্রশাসনিক জটিলতা ও লাল ফিতের ফাঁস সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কৃষকরা সরাসরি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন । সম্মেলন শেষে সমস্ত মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তারা দেশের এই নতুন কৃষি মিশনকে সফল করতে একযোগে কাজ করার যৌথ শপথ গ্রহণ করেন । 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান' এবং প্রাকৃতিক চাষের এই সমন্বিত রূপরেখা আগামী দিনে ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের মাইলফলক হতে চলেছে ।

    SHARE STORY
    STORY 4 OF 10
    INDIA

    রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপহারে পুনরুজ্জীবিতঃ এক অনন্য কূটনৈতিক মেলবন্ধন

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি এবং তাঁর অনন্য সাংস্কৃতিক অবদানকে কেন্দ্র করে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 17, 2026
    রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপহারে পুনরুজ্জীবিতঃ এক অনন্য কূটনৈতিক মেলবন্ধন

    রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপহারে পুনরুজ্জীবিতঃ এক অনন্য কূটনৈতিক মেলবন্ধন

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি এবং তাঁর অনন্য সাংস্কৃতিক অবদানকে কেন্দ্র করে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন একে অপরকে বিশেষ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ভারত-সুইডেন রবীন্দ্র ঐতিহ্য উদযাপন করেছেন । নতুন দিল্লির প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মে ২০২৬ তারিখে এই বিশেষ উপহার বিনিময় সম্পন্ন হয় । এই দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য বিনিময় কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই মজবুত করে না, বরং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও দর্শনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে ফুটিয়ে তোলে । বিশেষ করে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সুইডেন সফরের শতবর্ষ পূর্তির সাথে এই আয়োজনটি মিলে যাওয়ায় এর গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা বহুগুণ বেড়ে গেছে ।

    সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর উপহার: আর্কাইভে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস

    এই কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে একটি বিশেষ বাক্স উপহার দেওয়া হয় । এই বাক্সের মধ্যে ছিল সুইডিশ জাতীয় আর্কাইভে সম্প্রতি আবিষ্কৃত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বহস্তে লেখা দুটি এপিগ্রাম বা সংক্ষিপ্ত কবিতার নিখুঁত প্রতিরূপ (Replica) । এর সাথে যুক্ত ছিল একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক পাঠ্য এবং ১৯২১ সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় (Uppsala University) পরিদর্শনের সময় তোলা গুরুদেবের একটি দুর্লভ ঐতিহাসিক আলোকচিত্র । ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯২১ এবং ১৯২৬ সালে সুইডেন সফরের সময় রবীন্দ্রনাথ এই আসল এপিগ্রামগুলি তৈরি করেছিলেন, যা এতদিন সুইডেনের জাতীয় আর্কাইভে অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষিত ছিল ।

    ভারতের উপহার: শান্তিনিকেতনের শিল্প ও গুরুদেবের সাহিত্যকর্ম

    পাল্টা সৌজন্য হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগৃহীত রচনাবলীর একটি বিশেষ সেট উপহার দেন । এর পাশাপাশি তিনি শান্তিনিকেতনের স্থানীয় কারিগরদের দ্বারা বিশেষভাবে তৈরি একটি চামড়ার হস্তশিল্পের ব্যাগও তুলে দেন । এই ব্যাগের নকশা ও মোটিফগুলি স্বয়ং গুরুদেব নির্বাচন করেছিলেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ কারিগরদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা । এই বিশেষ ব্যাগটি রবীন্দ্রনাথের সেই মহান জীবনদর্শনকে বহন করে, যেখানে তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিল্পকলা কেবল গ্যালারিতে বন্দি থাকার জন্য নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যবহারের বস্তুর মধ্যেও শিল্পের ছোঁয়া থাকা উচিত । এটি মানুষের বৌদ্ধিক চিন্তা এবং কার্যকারিতার মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় রক্ষা করে ।

    একটি ঐতিহাসিক সফরের শতবর্ষ ও যৌথ মেধাভিত্তিক ঐতিহ্য

    ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেও তৎকালীন বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তিনি পুরস্কার গ্রহণের জন্য সরাসরি সুইডেন যেতে পারেননি । তবে পরবর্তীতে ১৯২১ সালে যখন তিনি সুইডেন সফরে যান, তখন সুইডেনের রাজা পঞ্চম গুস্তাভ (King Gustav V) তাঁকে রাজকীয় মর্যাদার সাথে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন । ২০২৬ সালের এই বিশেষ উপহার বিনিময় মূলত ভারত ও সুইডেনের মধ্যকার সেই দীর্ঘদিনের যৌথ সাংস্কৃতিক এবং মেধাভিত্তিক ঐতিহ্যকেই বিশ্বমঞ্চে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করলো । গণতান্ত্রিক এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এই অনন্য নিদর্শনটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি নতুন এবং ইতিবাচক দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ।

    SHARE STORY
    STORY 5 OF 10
    INDIA

    আফসলুইটডাইক বাঁধ পরিদর্শন: জল ব্যবস্থাপনায় ভারত-নেদারল্যান্ডস ঐতিহাসিক কৌশলগত চুক্তি

    আন্তর্জাতিক জল পরিকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস সফরকালে দেশটির জল ব্যবস্থাপনার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক নিদর...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 17, 2026
    আফসলুইটডাইক বাঁধ পরিদর্শন: জল ব্যবস্থাপনায় ভারত-নেদারল্যান্ডস ঐতিহাসিক কৌশলগত চুক্তি

    আফসলুইটডাইক বাঁধ পরিদর্শন: জল ব্যবস্থাপনায় ভারত-নেদারল্যান্ডস ঐতিহাসিক কৌশলগত চুক্তি

    আন্তর্জাতিক জল পরিকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস সফরকালে দেশটির জল ব্যবস্থাপনার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আফসলুইটডাইক বাঁধ পরিদর্শন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী । ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর সাথে তাঁর এই যৌথ পরিদর্শন মূলত দুই দেশের উদ্ভাবনী জল ব্যবস্থাপনা সমাধান, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ার অভিন্ন অঙ্গীকারকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে । ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল বাঁধটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত, যা নেদারল্যান্ডসের একটা বড় অংশকে উত্তর সাগরের হাত থেকে রক্ষা করে ।

    গুজরাটের 'কালপসার' ও ডাচ প্রযুক্তির মেলবন্ধন

    প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই আফসলুইটডাইক বাঁধ পরিদর্শন ভারতের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । এই পরিদর্শনের সময় ডাচ প্রযুক্তির সাথে ভারতের গুজরাট রাজ্যে বাস্তবায়নাধীন উচ্চাভিলাষী 'কালপসার' প্রকল্পের সাদৃশ্যগুলোর ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয় । উল্লেখ্য, গুজরাটের 'কালপসার' প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো খাম্বাত উপসাগরের ওপর দিয়ে একটি বিশাল মিষ্টি জলের জলাধার গড়ে তোলা । যার সাথে জোয়ার-ভাটা শক্তি উৎপাদন, সেচ ব্যবস্থা এবং পরিবহন পরিকাঠামোকে সমন্বিত করা সম্ভব হবে ।

    দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো আশয়পত্র (LoI)

    এই ঐতিহাসিক সফর ও পরিদর্শনের প্রেক্ষাপটে ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক এবং নেদারল্যান্ডসের পরিকাঠামো ও জল ব্যবস্থাপনা মন্ত্রকের মধ্যে একটি বিশেষ আশয়পত্র (Letter of Intent) স্বাক্ষরিত হয়েছে । 'কালপসার' প্রকল্পে উন্নত কারিগরি সহযোগিতার লক্ষ্যে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই স্বাগত জানিয়েছেন । উভয় নেতাই একমত হয়েছেন যে, ডাচদের হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জল প্রকৌশলের বিশেষ দক্ষতা এবং ভারতের প্রকল্প বাস্তবায়নের বিশাল পরিসর—এই দুইয়ের মেলবন্ধন পারস্পরিক কল্যাণকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অপার সুযোগ সৃষ্টি করেছে ।

    সুদৃঢ় হলো ভারত-নেদারল্যান্ডস জল বিষয়ক অংশীদারিত্ব

    এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি মূলত 'ভারত-নেদারল্যান্ডস জল বিষয়ক কৌশলগত অংশীদারিত্ব'-কে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের ধারাকে নতুন শক্তি প্রদান করল । জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে মিষ্টি জল সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে দুই দেশের এই যৌথ পদক্ষেপ আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে জল ব্যবস্থাপনার রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।

    SHARE STORY
    STORY 6 OF 10
    INDIA

    ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বড় সাফল্য: ১.৯৮ লক্ষ কোটির নিট মুনাফায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলোর বিশ্বরেকর্ড

    ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড যে আরও শক্তিশালী হচ্ছে, তার অকাট্য প্রমাণ দিল দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলো। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 13, 2026
    ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বড় সাফল্য: ১.৯৮ লক্ষ কোটির নিট মুনাফায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলোর বিশ্বরেকর্ড

    ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বড় সাফল্য: ১.৯৮ লক্ষ কোটির নিট মুনাফায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলোর বিশ্বরেকর্ড

    ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড যে আরও শক্তিশালী হচ্ছে, তার অকাট্য প্রমাণ দিল দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলো। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের রেকর্ড মুনাফা ২০২৬ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে । সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে সম্মিলিত নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা ভারতের ব্যাঙ্কিং ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে । এটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং গত চার বছর ধরে চলা টানা লাভের এক ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতিফলন ।

    অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা ও ব্যবসায়িক বিকাশ

    ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলোর সম্মিলিত ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৩.৩ লক্ষ কোটি টাকা । গত বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১২.৮ শতাংশ । সাধারণ মানুষের সঞ্চয় বা জমার পরিমাণও ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ১৫৬.৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে । তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ঋণদানের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলোর সাহসী পদক্ষেপ। বার্ষিক ১৫.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে মোট ঋণদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৭ লক্ষ কোটি টাকা । বিশেষ করে খুচরো ক্ষেত্র (১৮.১%), কৃষি (১৫.৫%) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (১৮.২%) ক্ষেত্রে ঋণের প্রবাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণকে ত্বরান্বিত করেছে ।

    অনাদায়ী ঋণের কালবেলা পার: সম্পদের গুণমান উন্নয়ন

    একটা সময় ছিল যখন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলো 'ব্যাড লোন' বা অনাদায়ী ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে সম্পদের গুণগত মানের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে । বর্তমানে গ্রস এনপিএ (Gross NPA) বা মোট অনাদায়ী ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৯৩ শতাংশে এবং নেট এনপিএ (Net NPA) নেমে এসেছে অবিশ্বাস্য ০.৩৯ শতাংশে । এটি ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত । নতুন করে ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতাও কমে মাত্র ০.৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে । এর থেকে স্পষ্ট যে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্যাঙ্কগুলো এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ।

    প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল

    অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলোর এই লাভের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে উন্নত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল রূপান্তর । ব্যাঙ্কগুলোর ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (Cost to Income Ratio) এখন ৪৯.৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় । এছাড়া, ব্যাঙ্কগুলোর মূলধনী অবস্থানও অত্যন্ত শক্তিশালী। বর্তমানে তাদের মূলধন ও ঝুঁকির অনুপাত ১৬.৬ শতাংশ, যা বিধিসম্মত সীমার (১১.৫%) চেয়ে অনেক বেশি ।

    ২০৪৭-এর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ অর্থাৎ ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার যে স্বপ্ন কেন্দ্র সরকার দেখছে, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলো এখন পূর্ণ শক্তিতে প্রস্তুত । পর্যাপ্ত মূলধন, ক্রমবর্ধমান লাভজনকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ভারতের উদীয়মান অর্থনীতির ঋণের চাহিদা মেটাতে এই ব্যাঙ্কগুলো এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী । কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের এই প্রতিবেদনটি আমানতকারীদের মনেও এক নতুন আস্থার জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে ।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    SHARE STORY
    STORY 7 OF 10
    INDIA

    বঙ্গোপসাগরে মৈত্রীর নতুন ঢেউ: সফল সফর শেষে চট্টগ্রাম ছাড়ল INS Sunayna

    DI. কলকাতা/চট্টগ্রাম: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। ভারত সরকারের 'সাগর' (SAGAR) প্রকল...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 13, 2026
    বঙ্গোপসাগরে মৈত্রীর নতুন ঢেউ: সফল সফর শেষে চট্টগ্রাম ছাড়ল INS Sunayna

    বঙ্গোপসাগরে মৈত্রীর নতুন ঢেউ: সফল সফর শেষে চট্টগ্রাম ছাড়ল INS Sunayna

    DI. কলকাতা/চট্টগ্রাম: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। ভারত সরকারের 'সাগর' (SAGAR) প্রকল্পের অধীনে মোতায়েন করা ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ INS Sunayna Chattogram Port Call শেষ করে গত ১০ মে বাংলাদেশের মাটি ছাড়লো। চারদিনের এই সফরটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাদারী দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক নিবিড় অধ্যায়

    DI. কলকাতা/চট্টগ্রাম: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। ভারত সরকারের 'সাগর' (SAGAR) প্রকল্পের অধীনে মোতায়েন করা ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ INS Sunayna Chattogram Port Call সম্পন্ন করে গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের মাটি ত্যাগ করেছে 。 চারদিনের এই সফরটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাদারী দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক নিবিড় অধ্যায়

    কূটনৈতিক তৎপরতা ও পেশাদারী বিনিময়

    চট্টগ্রামে থাকার সময়েই INS Sunayna র কমান্ডিং অফিসার বাংলাদেশের নৌ-প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন । তিনি কমান্ডার বিএন ফ্লিট (COMBAN) এবং কমান্ডার চট্টগ্রাম নেভাল এরিয়া (COMCHIT)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সামুদ্রিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। জাহাজের ডেকে আয়োজিত রাজকীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর গভীরতাকেই আরো একবার স্পষ্ট করল।

    এছাড়াও,ভারতীয় নৌসেনারা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার ক্যাডেট ও অনুষদ সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন । বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দুই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্ববোধের জন্ম দিয়েছে একথা বলাই বাহুল্য।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    সমুদ্রে যৌথ রণকৌশল: ইন্টারঅপারেবিলিটির জয়গান

    সফর শেষে বন্দর ত্যাগের মুহূর্তে আইএনএস সুনায়না এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিএনএস প্রত্যয়’ (BNS Protoy) এক যৌথ মহড়া বা ‘প্যাসেজ এক্সারসাইজ’ (PASSEX)-এও করে।

    বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিমান শাখার সহায়তায় পরিচালিত এই মহড়ায় অত্যন্ত জটিল সামুদ্রিক কৌশল এবং উন্নত রণকৌশল প্রদর্শিত হয় । এই ধরনের যৌথ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো আপদকালীন সময়ে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে কাজের সমন্বয় বা ইন্টারঅপারেবিলিটি বৃদ্ধি করা।

    আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বার্তা

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    ১৬টি বন্ধু দেশের নৌ-কর্মীদের নিয়ে বর্তমানে আইএনএস সুনায়না শ্রীলঙ্কার কলম্বোর পথে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী বার্তা । ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাকেও আরও জোরদার করবে।

    SHARE STORY
    STORY 8 OF 10
    INDIA

    রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা: প্রসূন রায়ের নতুন অনুবাদ গ্রন্থ ‘Horrors Next Door’

    রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের এক রোমাঞ্চকর দিক বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হতে চলেছে। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘গল্পগুচ্ছ’ থেকে বা...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 11, 2026
    রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা: প্রসূন রায়ের নতুন অনুবাদ গ্রন্থ ‘Horrors Next Door’

    রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা: প্রসূন রায়ের নতুন অনুবাদ গ্রন্থ ‘Horrors Next Door’

    রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের এক রোমাঞ্চকর দিক বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হতে চলেছে। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘গল্পগুচ্ছ’ থেকে বাছাই করা ৮টি হাড়হিম করা অতিপ্রাকৃত গল্প নিয়ে প্রকাশিত হলো নতুন ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ হররস নেক্সট ডোর (Horrors Next Door)। বিশিষ্ট বেস্টসেলার লেখক প্রসূন রায় (Prasun Roy) এই কালজয়ী গল্পগুলিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ইংরেজিভাষী পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট! পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত এই বইটি রবীন্দ্রনাথের ‘ম্যাঁকাব্র’ বা ভৌতিক ঘরানার গল্পের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংকলন।

    এক মলাটে কালজয়ী রহস্যের স্বাদ

    হররস নেক্সট ডোর সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে ‘মণিহারা’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘নিশীথে’, ‘কঙ্কাল’, ‘গুপ্তধন’, ‘সম্পত্তি সমর্পণ’, ‘জীবিত ও মৃত’ এবং ‘শাস্তি’। উল্লেখ্য, এই তালিকার ‘মণিহারা’ গল্পটি নিয়ে কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬১ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘তিন কন্যা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। বাকি গল্পগুলোর অধিকাংশই এই প্রথমবার বিশ্বজুড়ে অ-বাঙালি পাঠক ও নতুন প্রজন্মের কাছে এমন আধুনিক সংকলিত রূপে পৌঁছাতে চলেছে।

    অনুবাদ শৈলী ও রবীন্দ্র-সাহিত্যের আধুনিক রূপান্তর

    প্রসূন রায় তাঁর অনুবাদে রবীন্দ্রনাথের মূল গল্পের আত্মাকে অক্ষুণ্ণ রেখেও সমসাময়িক পাঠকদের উপযোগী একটি আধুনিক ভাষাভঙ্গি ব্যবহার করেছেন। কবির অতিপ্রাকৃত কাহিনীগুলোতে যে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকে, তা ইংরেজিতে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু লেখক এখানে সফলভাবে সেই ভয়ের আবহ বা 'অ্যাম্বিয়েন্স' তৈরি করতে পেরেছেন। বিশেষ করে 'ক্ষুধিত পাষাণ'-এর সেই হাহাকার কিংবা 'মণিহারা'-র গয়নার অলৌকিক শব্দ পাঠকদের হাড়হিম করা রোমাঞ্চ দেবে। এই অনুবাদ কেবল ভাষার রূপান্তর নয়, বরং বিশ্বসাহিত্যের দরবারে রবীন্দ্রনাথের অন্ধকার ও রহস্যময় প্রতিভাকে নতুন করে তুলে ধরার এক সাহসী প্রয়াস।

    লেখক ও অনুবাদক প্রসূন রায়ের কৃতিত্ব

    বেস্টসেলার লেখক প্রসূন রায় তাঁর সাবলীল ও সহজবোধ্য লেখনীর জন্য পরিচিত। আইআইএম লখনউ-এর এই প্রাক্তনী এর আগে জীবনী, অপরাধ থ্রিলার এবং ইতিহাস নিয়ে একাধিক জনপ্রিয় বই লিখেছেন। টাটা স্টিল কলকাতা লিটারারি মিট-এর মতো নামী মঞ্চে বক্তা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি এবং তাঁর গল্পের চলচ্চিত্রায়ন তাঁর সাহিত্যিক দক্ষতার প্রমাণ দেয়। পেশায় ওষুধ শিল্পে যুক্ত থেকেও প্রসূন যেভাবে রবীন্দ্রনাথের কঠিন বাংলা শব্দগুলিকে সহজ অথচ গম্ভীর ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।

    কেন এই বইটি সংগ্রহে রাখবেন?

    বর্তমান প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের রহস্যময় জগতকে পৌঁছে দেওয়াই এই বইটির মূল উদ্দেশ্য। গত ৮ই মে সাউথ সিটি মলের স্টারমার্কে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির শুভ মুক্তি ঘটেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী, সুদেষ্ণা রায় এবং অধ্যাপক অশোক বিশ্বনাথনের মতো ব্যক্তিত্বরা। রহস্য, ভয় আর সাহিত্যের মেলবন্ধনে হররস নেক্সট ডোর বইটি পাঠকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    SHARE STORY
    STORY 9 OF 10
    INDIA

    নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক: জারি সব চালু প্রকল্প। আয়ুষ্মান ভারত শুরু

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক আজ নবান্নে সম্পন্ন হলো, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহ...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 11, 2026
    নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক: জারি সব চালু প্রকল্প। আয়ুষ্মান ভারত শুরু

    নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক: জারি সব চালু প্রকল্প। আয়ুষ্মান ভারত শুরু

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক আজ নবান্নে সম্পন্ন হলো, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম এই বৈঠকেই রাজ্যের প্রশাসনিক দিশা, সুশাসন, এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যের উন্নয়ন এখন থেকে 'ডাবল ইঞ্জিন সরকারের' হাত ধরে জাতীয় মূলস্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা

    মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কিষাণ বীমা যোজনা, পিএম শ্রী, এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সুবিধা পৌঁছাবে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের দোরগোড়ায়।

    কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক সংস্কার

    রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই ক্যাবিনেট বৈঠকে। এর পাশাপাশি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই সরকার আমিত্বে নয়, নীতিতে চলে।"

    সীমান্ত সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা

    সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পূর্বতন সরকারের আমলে যে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এছাড়াও, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার মাধ্যমে রাজ্যের আইনি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

    সামাজিক সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা

    বর্তমানে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক কল্যাণকর প্রকল্প সচল থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। কোনো মৃত ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারী যাতে অবৈধভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “ভয় আউট, ভরসা ইন” বার্তার পুনরাবৃত্তি করে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে থাকার এবং উন্নয়নের শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক হিংসামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়াই যে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য, তা এদিন তাঁর বক্তব্যে আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল।

    SHARE STORY
    STORY 10 OF 10
    INDIA

    নন্দীগ্রাম অঙ্কেই লালবাড়িতে শুভেন্দু । তফাত সাদা ধুতির বদলে পাজামা আর হাফ কুর্তা

    বিশেষ প্রতিবেদন: রামকৃষ্ণ সিনহা । এডিটর । democraticindians.in বাংলার রাজনীতিতে ফের এক অধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী: বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। জল্পনা, কল্পনা আর দীর...

    DI Desk
    DI DeskEditorial
    May 8, 2026
     নন্দীগ্রাম অঙ্কেই লালবাড়িতে শুভেন্দু । তফাত সাদা ধুতির বদলে পাজামা আর হাফ কুর্তা

    নন্দীগ্রাম অঙ্কেই লালবাড়িতে শুভেন্দু । তফাত সাদা ধুতির বদলে পাজামা আর হাফ কুর্তা

    বিশেষ প্রতিবেদন: রামকৃষ্ণ সিনহা । এডিটর । democraticindians.in বাংলার রাজনীতিতে ফের এক অধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী: বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। জল্পনা, কল্পনা আর দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে এল মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর নাম। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড সেখানেই লেখা হচ্ছে আরেক আন্দোলনের পর সফলতার গল্প।

    আন্দোলনের আগুন থেকে রাইটার্স বিল্ডিং। গত ২৭ বছর সাংবাদিক হিসেবে গত তিন দশকের বাংলার ক্ষমতার পালাবদল দেখলাম, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থান আক্ষরিক অর্থেই রূপকথার মতো। বার বার গল্পে মোড় এসেছে। কেরিয়ারের শুরুতে ক্ষমতার বৃত্ত দেখেছিলাম রাইটার্স বিল্ডিং এ । এরপর গঙ্গার ওপাড়ে ক্ষমতার কল্পলোক। একটা ইউটোপীয় শাসন ব্যবস্থা। এবার ২০২৬। ফের কলকাতার বুকে লাল বাড়িতেই ক্ষমতার ফিরে আসা। শুধু তফাত ধুতি থেকে পাজামা। ২০০৭ এর নন্দীগ্রামের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে বঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী —পথটা মসৃণ ছিল না। ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সেই লড়াকু সেনাপতি আজ যখন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসছেন, তখন তা কেবল এক ব্যক্তির জয় নয়, বরং তৃণমূল স্তরের মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা উচিত বৈ কি !

    কেউ কেউ শুভেন্দুকে তৃনমূলের বেনিফিশিয়ারী বললেও, লড়াই টা যে দল বদলের পর ঘরে বাইরে সমান তালে চালিয়ে যেতে হয়েছে সেটাকে অস্বীকার করা যায় কি ? রাজনীতি আর প্রেমে জয় পাওয়াটাই বড় কথা। শেষ কথা। সেটা জানে অধিকারী পরিবারের এই লড়াকু প্রজন্ম। তবে হাতে তৈরি দল থেকে ক্ষমতা ছুঁড়ে ফেলে ফের শীর্ষে বসার যে ধক লাগে তা দেখিয়ে দিলেন শুভেন্দু । শুভেন্দু অধিকারী ।

    কঠিন লড়াই এবং রাজনৈতিক ম্যারাথন শুভেন্দু অধিকারীর এই যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ২০২১-এর নন্দীগ্রাম বিধানসভা। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ। এরপর ধাপে ধাপে জনমত গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে তিনি আজ এই জায়গায় । দু যুগেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করছি । তাই মনে করি, তাঁর এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে নিঁখুত সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে পারার অদ্ভুত ক্ষমতা। আর সময় সুযোগের সমস্ত সমীকরণকে মিলিয়ে দেওয়া।

    আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব। রাজ্যের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা থেকে শুরু করে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁকে কঠোর পরীক্ষা দিতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি দলটা আর তাদের স্ট্র্যাটেজি শুভেন্দু যতটা মেনে আর কাজে লাগিয়ে দলকে বাংলায় শাসকের ভুমিকায় এনেছে তাতে তাঁর সরকার হবে ‘অন্ত্যোদয়’ সরকার, যেখানে লাইনের শেষে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিও সরকারি সুবিধা পাবেন।

    Advertisement

    Democratic Indians Premium

    উপসংহার বাংলার রাজনীতিতে আজ এক নতুন সূর্যোদয় হলো। শুভেন্দু অধিকারী কেবল একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন, বরং এক বিশাল প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে যে ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তাতে বাংলার মানুষ স্বপন দেখছেন। দীর্ঘ না পাওয়ার পর , শোষণের পর । কেন্দ্রের বঞ্চনার গল্প শুনে আর রাত কাটাতে হয়তো হবে না তাঁদের।

    তবে, তবু এই শব্দ গুলো থেকেই যায়।

    আমার বিশ্বাস ১৯৭৭ এ ইংরাজ সাহেব ট্মাস লিওনের নকশার ৫,৫০,০০০ বর্গফুট এর লালবাড়িতে আজ ভারত মা এর ছবি থাকবে সব মন্ত্রী আমলার ঘরে। দীর্ঘ ইতিহাস হতবাক করলেও আশা করি এবারে শিকে ছিড়বে বাংলার। তবে ওই যে মহাকাল! সময় প্রমাণ করবে , বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের মুখ হিসেবে তাঁরা শুভেন্দু অধিকারীর ওপরেই ভরসা রেখেছেন।

    আগামী কয়েক বছর শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতা বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

    SHARE STORY

    You're All Caught Up

    You've reached the end of today's Quick10 briefing. Check back later for fresh updates throughout the day.

    Back to Home