DI, কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় শুরু হলো। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) জয়ী হওয়া সত্ত্বেও, বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার মরিয়া চেষ্টার অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিলেন রাজভবন। সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল। বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কড়া সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
জনম্যান্ডেট বনাম ক্ষমতার লড়াই
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্পষ্টভাবেই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং বিজেপি প্রয়োজনীয় সংখাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনের সেই রায়কে মান্যতা না দিয়ে ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করছিল। প্রশাসনিক কাজে অসহযোগিতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে বাধা সৃষ্টির ফলে রাজ্যে এক গভীর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়।
রাজ্যপালের কঠোর অবস্থান
পরিস্থিতি বিচার করে রাজ্যপাল আর. এন. রবি আর সময় নষ্ট না করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৭ মে ২০২৬ থেকে বর্তমান বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অনৈতিকভাবে টিকে থাকার প্রচেষ্টাকে সমূলে বিনাশ করতেই এই সিদ্ধান্ত। রাজ্যপাল সংবিধান রক্ষা করতে তাঁর বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন, যাতে নির্বাচিত দলকে সরকার গঠনে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে না হয়।
সাংবাদিকের কলমে: গণতন্ত্রের জয় নাকি নতুন লড়াই?
অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই 'ক্ষমতা না ছাড়ার' মানসিকতা বাংলার গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরেও যখন একটি দল ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা প্রকাশ করে, তখন রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়ে। Democratic Indians-এর বিশ্লেষণ বলছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হলো।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ফলে এখন রাজ্যে এক বিশেষ প্রশাসনিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক শাসন: বর্তমান অস্থিরতা কাটাতে দ্রুত নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাজ্যপালের হাতে।
নতুন শপথের প্রস্তুতি: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের নেতৃত্ব এখন আইনি পথে সরকার গঠনের দাবি জোরালো করতে পারবে।
উপসংহার: জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তৃণমূলের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে রাজ্যপাল যে কড়া বার্তা দিলেন, তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন নজির হয়ে থাকবে।





