DI Report: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ভোট দিলেন সাধারণ মানুষ। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির পাশাপাশি এদিন দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বেশ কিছু আসনেও ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। দিনের শেষে কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হার পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ: বুথে বুথে লম্বা লাইন
এদিন সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের তিন জেলা— কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে উৎসবের মেজাজ দেখা যায়। অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মেদিনীপুর (পূর্ব ও পশ্চিম) এবং মুর্শিদাবাদের নির্দিষ্ট আসনগুলোতেও সকাল থেকে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। মেদিনীপুরের কাঁথি, এগরা এবং কেশিয়াড়ির মতো কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৯টার মধ্যেই ২০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে যায়। জঙ্গলমহলের ভোটারদের মধ্যে যেমন উন্মাদনা ছিল, তেমনি মুর্শিদাবাদের গ্রামগুলোতেও প্রখর রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষকে ভোট দিতে দেখা গেছে।
নওদায় অশান্তি: টার্গেটে হুমায়ূন কবীর
সারাদিন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট চললেও বিকেলের দিকে মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে নওদার দাপুটে নেতা হুমায়ূন কবীরের নবগঠিত দলের কর্মীদের মধ্যে তুমুল অশান্তি বাধে। বোমাবাজি এবং হাতাহাতির জেরে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় নওদার বেশ কিছু এলাকা। হুমায়ূন কবীরের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাঁর দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। যদিও শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই একটি বড় ঘটনা ছাড়া মেদিনীপুর বা উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে তেমন কোনো বড়সড় হিংসার খবর পাওয়া যায়নি।
কমিশনের কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা
এবারের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মেদিনীপুরের স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ওয়েবকাস্টিং এবং ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিকরা মনে করছেন, প্রথম দফার এই উচ্চ শতাংশের ভোটদান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
উপসংহার
বিক্ষিপ্ত নওদা কাণ্ড বাদে ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোট ছিল মূলত শান্ত ও সুশৃঙ্খল। উত্তরবঙ্গের চা-বলয় থেকে মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকা— সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রথম দফার এই ‘ট্রেন্ড’ পরবর্তী দফার ভোটগুলোতেও বজায় থাকে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





