বিশেষ প্রতিবেদন: রামকৃষ্ণ সিনহা । এডিটর । democraticindians.in বাংলার রাজনীতিতে ফের এক অধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী: বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। জল্পনা, কল্পনা আর দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে এল মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর নাম। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড সেখানেই লেখা হচ্ছে আরেক আন্দোলনের পর সফলতার গল্প।

আন্দোলনের আগুন থেকে রাইটার্স বিল্ডিং। গত ২৭ বছর সাংবাদিক হিসেবে গত তিন দশকের বাংলার ক্ষমতার পালাবদল দেখলাম, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থান আক্ষরিক অর্থেই রূপকথার মতো। বার বার গল্পে মোড় এসেছে। কেরিয়ারের শুরুতে ক্ষমতার বৃত্ত দেখেছিলাম রাইটার্স বিল্ডিং এ । এরপর গঙ্গার ওপাড়ে ক্ষমতার কল্পলোক। একটা ইউটোপীয় শাসন ব্যবস্থা। এবার ২০২৬। ফের কলকাতার বুকে লাল বাড়িতেই ক্ষমতার ফিরে আসা। শুধু তফাত ধুতি থেকে পাজামা। ২০০৭ এর নন্দীগ্রামের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে বঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী —পথটা মসৃণ ছিল না। ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সেই লড়াকু সেনাপতি আজ যখন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসছেন, তখন তা কেবল এক ব্যক্তির জয় নয়, বরং তৃণমূল স্তরের মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা উচিত বৈ কি !

কেউ কেউ শুভেন্দুকে তৃনমূলের বেনিফিশিয়ারী বললেও, লড়াই টা যে দল বদলের পর ঘরে বাইরে সমান তালে চালিয়ে যেতে হয়েছে সেটাকে অস্বীকার করা যায় কি ? রাজনীতি আর প্রেমে জয় পাওয়াটাই বড় কথা। শেষ কথা। সেটা জানে অধিকারী পরিবারের এই লড়াকু প্রজন্ম। তবে হাতে তৈরি দল থেকে ক্ষমতা ছুঁড়ে ফেলে ফের শীর্ষে বসার যে ধক লাগে তা দেখিয়ে দিলেন শুভেন্দু । শুভেন্দু অধিকারী ।

কঠিন লড়াই এবং রাজনৈতিক ম্যারাথন শুভেন্দু অধিকারীর এই যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ২০২১-এর নন্দীগ্রাম বিধানসভা। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ। এরপর ধাপে ধাপে জনমত গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে তিনি আজ এই জায়গায় । দু যুগেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করছি । তাই মনে করি, তাঁর এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে নিঁখুত সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে পারার অদ্ভুত ক্ষমতা। আর সময় সুযোগের সমস্ত সমীকরণকে মিলিয়ে দেওয়া।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব। রাজ্যের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা থেকে শুরু করে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁকে কঠোর পরীক্ষা দিতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি দলটা আর তাদের স্ট্র্যাটেজি শুভেন্দু যতটা মেনে আর কাজে লাগিয়ে দলকে বাংলায় শাসকের ভুমিকায় এনেছে তাতে তাঁর সরকার হবে ‘অন্ত্যোদয়’ সরকার, যেখানে লাইনের শেষে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিও সরকারি সুবিধা পাবেন।

উপসংহার বাংলার রাজনীতিতে আজ এক নতুন সূর্যোদয় হলো। শুভেন্দু অধিকারী কেবল একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন, বরং এক বিশাল প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবে যে ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তাতে বাংলার মানুষ স্বপন দেখছেন। দীর্ঘ না পাওয়ার পর , শোষণের পর । কেন্দ্রের বঞ্চনার গল্প শুনে আর রাত কাটাতে হয়তো হবে না তাঁদের।

তবে, তবু এই শব্দ গুলো থেকেই যায়।

আমার বিশ্বাস ১৯৭৭ এ ইংরাজ সাহেব ট্মাস লিওনের নকশার ৫,৫০,০০০ বর্গফুট এর লালবাড়িতে আজ ভারত মা এর ছবি থাকবে সব মন্ত্রী আমলার ঘরে। দীর্ঘ ইতিহাস হতবাক করলেও আশা করি এবারে শিকে ছিড়বে বাংলার। তবে ওই যে মহাকাল! সময় প্রমাণ করবে , বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের মুখ হিসেবে তাঁরা শুভেন্দু অধিকারীর ওপরেই ভরসা রেখেছেন।

আগামী কয়েক বছর শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতা বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

Democratic Indians Premium