আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৯-কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে (Kasba Assembly Constituency) বড়সড় বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO West Bengal) কাছে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে যে, চুক্তিভিত্তিক (Contractual) কর্মীদের নিয়ম না মেনে 'সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট' এবং 'অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসার' পদে নিয়োগ করা হয়েছে। শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কসবা বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক কী অভিযোগ তুলল বিজেপি?

বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কসবা বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার (RO) পূর্ণিমা দে একটি বিশেষ নির্দেশিকা (Memo No. 93/Elec./149-Kasba/AGE-26) জারি করেন। এই নির্দেশিকায় যাদের 'সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট' এবং 'অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসার' হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, তারা আদতে স্থায়ী সরকারি কর্মচারী নন।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এই কর্মীরা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধীনে থাকা ISGPP সেলের চুক্তিভিত্তিক কর্মী। বর্তমানে তারা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সাথে যুক্ত রয়েছেন। এই ধরণের নিয়োগকে নজিরবিহীন এবং বেআইনি বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।

কেন এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক? ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা কী বলে?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কঠোর গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, বিশেষ করে সেক্টর পর্যায়ের তদারকির কাজে কোনোভাবেই চুক্তিভিত্তিক বা অনিয়মিত কর্মীদের নিয়োগ করা যাবে না। সেক্টর অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকে, কারণ তারা সরাসরি বুথস্তরে ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

বিজেপির অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা বা সার্ভিস প্রোটেকশন থাকে না, যা একজন স্থায়ী সরকারি কর্মচারীর থাকে। ফলে তাদের দিয়ে নির্বাচনী কাজ করানো মানেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়া।

কসবা বিধানসভায় "সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট" পদ নিয়ে ঘনীভূত রহস্য

বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া তাঁর চিঠিতে আরও একটি গুরুতর বিষয়ের দিকে নজর আকর্ষণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত সাংগঠনিক কাঠামোতে 'সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট' বা 'অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসার' বলে কোনো পদের উল্লেখ নেই। তাঁর মতে, কমিশনের কড়া নজরদারি এড়াতেই রিটার্নিং অফিসার এই ধরণের কাল্পনিক পদ তৈরি করেছেন যাতে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।

এর আগে নাকি ওই একই ব্যক্তিদের সরাসরি 'সেক্টর অফিসার' বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আপত্তি ওঠায় কৌশলে পদের নাম বদলে দায়িত্ব অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এটি সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং বড় ধরণের প্রশাসনিক কারচুপি।

রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি

আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিজেপির পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হয়েছে:

১. ১০ এপ্রিল জারি করা রিটার্নিং অফিসারের বিতর্কিত ওই নির্দেশিকা (Memo No. 93) অবিলম্বে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।
২. পেশাগত অসদাচরণ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে ১৪৯-কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার পূর্ণিমা দে-র বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. শুধুমাত্র যোগ্য এবং স্থায়ী সরকারি আধিকারিকদেরই সেক্টর অফিসার বা অন্যান্য নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

কসবা কেন্দ্রে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভোটের ঠিক আগে কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের মতো জায়গায় এমন অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে এটি এখন অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রশাসনিক মদতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কমিশনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে এখন কসবার রাজনৈতিক মহল। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

Ad

Democratic Indians Premium

Ad-free reading and exclusive editorial insights

Join Now