কলকাতা, ৭ জুন: আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানব সেবাকে পাথেয় করে ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের এক অভূতপূর্ব ঘোষণা করা হলো। রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়...

ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মূল ঘোষণা

  • পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় আয়োজন: আগামী ২১ জুন বিশ্ব যোগ ও সঙ্গীত দিবসে বাংলার প্রতিটি শাখায় সহজ ক্রিয়া যোগ, শ্রী নাম ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিবির করা হবে।

  • নীতি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন: আগামী প্রজন্মকে রামায়ণ, মহাভারত, উপনিষদ ও গীতার আলোকে আলোকিত করতে প্রতি শাখায় নীতি শিক্ষাকেন্দ্র গড়া হবে।

  • তুলসী চারা বিতরণ: এই বিশেষ দিনটি থেকে প্রতি বাড়িতে তুলসী গাছের চারা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

ওঙ্কারনাথ মিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা

এদিনের মর্যাদাপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায়ের আচার্য ও প্রেসিডেন্ট এবং ওঙ্কারনাথ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা কিংকর বিঠঠল রামানুজ মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিংকর জয় পদ্মশ্রী বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউল, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সন্তুর বাদক পদ্মশ্রী তরুণ ভট্টাচার্য্য এবং বিশিষ্ট অধ্যাপক লক্ষ্মীনারায়ণ সৎপতি। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের এই দিকপালদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিতে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

মানব সেবা ও জগৎ কল্যাণে ওঙ্কারনাথ মিশন

সাংবাদিক সম্মেলনে ওঙ্কারনাথ মিশনের সভাপতি কিংকর প্রিয়নাথ মিশনের মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

"বিশ্বজুড়ে অখিল ভারত জয়গুরু সম্প্রদায় ও ওঙ্কারনাথ মিশনের যে সুবিশাল কর্মকান্ড, তার প্রাণকেন্দ্র হলো গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে শ্রী ভগবান ওঙ্কারনাথ দেব প্রতিষ্ঠিত মহামিলন মঠ। বর্তমানে ভারতবর্ষে ১২০ টি আশ্রম কেন্দ্র ছড়িয়ে রয়েছে। যার প্রধান কাজ শ্রী শ্রী ওঙ্কারনাথ ভাবতরঙ্গ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ ওঙ্কারনাথ মিশন শাখা নিরন্তর লোক কল্যাণে কাজ করে চলেছে।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, আত্মার স্বরূপ চেনা ও মোক্ষ লাভই মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। শ্রী শ্রী ওঙ্কারনাথ দেবের শিক্ষায় শিক্ষিত তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উত্তরসাধক কিংকর বিঠঠল রামানুজ জী মহারাজ এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন মানব সেবা ও জগৎ কল্যাণ। যা আজ ‘বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়’ মন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। শাস্ত্রের আধারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানই এই মিশনের মূল ভিত্তি।

পশ্চিমবঙ্গে ৩০,০০০ শাখায় বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস পালনের প্রস্তুতি

ওঙ্কারনাথ মিশন শিক্ষক সেবক সংঘের আহবায়ক সৌরভ হালদার আগামী ২১ জুনের কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ওঙ্কারনাথ মিশনের বিভিন্ন বিভাগ এবার একত্রিত ভাবে কাজ করছে। সনাতন ধর্মের স্তম্ভস্বরূপ শ্রী শ্রী ঠাকুরের আদর্শ ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে আগামী ২১ জুন বিশ্ব যোগ ও সঙ্গীত দিবসে বাংলার তিরিশ হাজার শাখায় সহজ ক্রিয়া যোগ, শ্রী নাম ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিবিরের আয়োজন করা হবে।

যুব সমাজকে সনাতন চেতনায় ঋদ্ধ করার আহ্বান

ওঙ্কারনাথ মিশনের সংগঠনের আহবায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বাংলার যুব সমাজকে সনাতন চেতনায় ঋদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ব যোগ দিবস ও সঙ্গীত দিবস কেন্দ্রীয় ভাবে মহামিলন মঠে আয়োজিত হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শাখাকে ইতিমধ্যেই সূচিত করা হয়েছে যাতে সর্বত্র এই দিনটি সমাদরে পালিত হয়।

এদিন থেকে দুটি বিশেষ সামাজিক ও আধ্যাত্মিক প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়:

  • তুলসী চারা বিতরণ: এই বিশেষ দিনটি থেকে প্রতি বাড়িতে তুলসী গাছের চারা পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প নেওয়া হয়েছে।

  • নীতি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন: প্রত্যেক শাখা ভিত্তিক নীতি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, এই কর্মযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী প্রজন্মকে রামায়ণ, মহাভারত, উপনিষদ ও গীতার আলোকে আলোকিত করা। ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে চরিত্র গঠনের মাধ্যমে তাঁদের আত্ম অনুসন্ধানের রাস্তায় ফিরিয়ে আনাই ওঙ্কারনাথ মিশনের প্রধান লক্ষ্য।

Democratic Indians Premium