কলকাতা ও জলপাইগুড়ি: গত ২৪ জুলাই কলকাতার NEET বিক্ষোভ ও সাংবাদিক নিগ্রহ: NEET বিক্ষোভ চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ জলপাইগুড়িতে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারকলিপি তুলে দেয়। বর্তমান সরকারের আমলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গটিও এই সাক্ষাতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রতিবাদের ঝড় ও প্রেস ক্লাবের মানব বন্ধন

সোমবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক কলকাতার প্রেস ক্লাব থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করেন। কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার চিত্রসাংবাদিক, রিপোর্টার, ভিডিও জার্নালিস্ট এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট স্রষ্টারা এই মিছিলে অংশ নেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার দাবিতে তাঁরা একটি মানব বন্ধনও তৈরি করেন। এদিকে, পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ২৪ জুলাইয়ের ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে ৫ জনকে ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের জন্য এসপ্ল্যানেডের ডোরিনা ক্রসিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আহত সাংবাদিকরাও লোকভবনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিবরণ দেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে অতীতের তুলনা ও কঠোর পদক্ষেপ

জলপাইগুড়িতে স্মারকলিপি গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা মোটেও বরদাস্ত করা হবে না। বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে ঘটনাগুলি শুধু সাধারণ ডায়েরি (GD)-তেই আটকে থাকত এবং এফআইআর (FIR) পর্যন্ত গড়াত না। কিন্তু বর্তমান সরকার ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে জামিনঅযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে এবং ইতিমধ্যেই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অতীতেও সাংবাদিকরা আক্রান্ত হলে তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা এবং সরকারের তরফ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে সুরক্ষার ৭ দফা দাবি

জলপাইগুড়িতে পেশ হওয়া স্মারকলিপিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৯(১)(এ) ধারানুযায়ী বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • দ্রুত তদন্ত ও বিচার: এই হামলার একটি নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া তদন্ত।

  • কঠোর শাস্তি: ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনানুগ শাস্তি প্রদান।

  • চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ: আহত সাংবাদিকদের বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা এবং দোষীদের কাছ থেকে চিকিৎসার খরচ আদায়।

  • বিশেষ সুরক্ষা: রাজনৈতিক সভা ও জনসমাবেশে মহিলা সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশিকা।

সাংবাদিক মহলের মতে, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা জনসমক্ষে সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের তরফ থেকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও, ভবিষ্যতে এহেন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রোটোকল জরুরি।

Democratic Indians Premium