বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্যিক মহলে এক দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। চলতি বছরের গত ২৭শে জুন, Dr. Shatorupa at MCCI র এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘MCCI MSME Conference 2026’ এ এসে এমন বার্তাই দিলেন । এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প মঞ্চে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের এক অত্যন্ত উজ্জ্বল ও আশাব্যঞ্জক রূপরেখা তুলে ধরলেন কলকাতার বিশিষ্ট সমাজকর্মী, জনসেবক তথা প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. শতরুপা (Dr. Shatorupa)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের দুই অগ্রণী শিল্প গোষ্ঠী ‘বাজাজ’ (Bajaj) এবং ডেয়ারি খাতের জায়ান্ট ‘আমূল’ (Amul) পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় বিনিয়োগ নিয়ে আসার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অ্যাঙ্কর ইন্ডাস্ট্রির হাত ধরে এমএসএমই-র বিকাশ: ড. শতরুপার দূরদর্শিতা কনফারেন্সে নিজের গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা প্রকাশ করে ড. শতরুপা উল্লেখ করেন যে, বাজাজ গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত বড় আকারে (in a big way) প্রবেশ করতে চলেছে। যদিও বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবুও এই পদক্ষেপ যে রাজ্যের শিল্পচিত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে, তা নিশ্চিত। এর পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে আমূল-এর পক্ষ থেকেও বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ড. শতরুপার মূল অভিমত ছিল, শুধু বাইরের বড় শিল্প আসার ওপর নির্ভর না করে পশ্চিমবঙ্গকে নিজের ‘অ্যাঙ্কর ইন্ডাস্ট্রি’ (Anchor Industry) বা মূল ভিত্তি-শিল্প গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। অতীতে রাজ্যে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ বা জুট শিল্পের মতো বড় বড় ভিত্তি-শিল্প ছিল, যা অজস্র সহায়ক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (Ancillary Industries & MSMEs) বাঁচিয়ে রাখত। ড. শতরুপার মতে, বাজাজ বা আমূলের মতো অ্যাঙ্কর ইন্ডাস্ট্রিগুলো রাজ্যে এলে, তাদের কেন্দ্র করে কয়েক হাজার নতুন MSME বা মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে, যা রাজ্যের যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
বাজেট বিশ্লেষণ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় ড. শতরুপার গভীর অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা ও গঠনমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় স্পষ্ট হয় । তাঁর দেখানো দিশায় আগামী বাংলার বানিজ্যিক পরিকাঠামোর বদল হবে তা হলফ করে বলাই যায়। যখন তিনি কেন্দ্রীয় বাজেট (নির্মলা সীতারামনের বাজেট) এবং সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেট—উভয়েরই তুলনামূলক ইতিবাচক দিকগুলি নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতৃত্বের শিল্পভাবনার উদাহরণ টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও শিল্প কাঠামোর উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্পকে চাঙ্গা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।





