নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। রাজ্যের পরিবহন ও প্রযুক্তি পরিষেবাকে আরও আধুনিক করতে তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগ (DoIT&E) এবং ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’ (ভারত ট্যাক্সি)-এর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যাত্রী সাথী এবং কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ভারত ট্যাক্সির মেলবন্ধন ঘটল।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে বার্তা
এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে এই উদ্যোগের প্রশংসা ও বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন পরিষেবা দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, যাত্রী সাথী ও ভারত ট্যাক্সির ফিচারগুলি একত্রিত হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও চালক—উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিষেবার বিস্তার
নতুন এই যৌথ উদ্যোগের ফলে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে:
পরিষেবার সংযোগ (Interoperability): এখন থেকে যাত্রী সাথী অ্যাপের চালক ও যাত্রীরা ভারত ট্যাক্সির সুবিধা পাবেন এবং একইভাবে ভারত ট্যাক্সি প্ল্যাটফর্মেও যাত্রী সাথীর রাইড মিলবে।
নতুন যানবাহনের সংযোজন: কেবল ক্যাব নয়, খুব দ্রুত রাজ্যজুড়ে এই প্ল্যাটফর্মে বাইক ট্যাক্সি এবং অটো-রিকশা পরিষেবা যুক্ত করা হচ্ছে।
চালকদের কল্যাণমূলক সুবিধা: পরিবহন চালকদের জন্য বিশেষ কো-অপারেটিভ মেম্বারশিপ এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
চুক্তিপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী
হাতে পাওয়া দলিল অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে যাত্রী সাথী অ্যাপের মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাজ্য সরকারের (DoIT&E) হাতেই। টেকনোলজি পার্টনার 'মুভিং টেক ইনোভেশনস' (MTI)-এর চুক্তি বজায় রেখেই ভারত ট্যাক্সির কো-ব্র্যান্ডিং কার্যকর করা হবে। ২০২৮ সালের পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে এটি নতুন চুক্তি ও রাজস্ব ভাগাভাগির মডেলে প্রবেশ করবে।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে যাত্রী সাথী ও ভারত ট্যাক্সির এই যৌথ পথচলা রাজ্যের দৈনিক নিত্যযাত্রীদের যেমন স্বস্তি দেবে, তেমনই হাজার হাজার চালকের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে।





