নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি এবং রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের এক মাস সম্পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিগত ১২ বছরের সুশাসন ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় নিয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, জনকল্যাণ ও দেশসেবায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এবং এই বছরই তাঁর জনপ্রতিনিধি (মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী মিলিয়ে) হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে।
অন্ত্যোদয় ও গরিব কল্যাণ: ১২ বছরের মূল আধার
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিগত ১২ বছরের মূল লক্ষ্যই ছিল গরিব কল্যাণ, রাষ্ট্র সেবা এবং ভারতের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া। ‘বিরাসত ভি, বিকাশ ভি’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে এনডিএ সরকার কাজ করে চলেছে।
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের একাত্ম মানববাদকে কার্যকর করতে সরকার যে সমস্ত ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি:
স্বচ্ছ ভারত অভিযান: দেশব্যাপী ১৪ কোটি শৌচালয় নির্মাণ।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: প্রায় ৫ কোটি পরিবারকে পাকা বাড়ি প্রদান, যার মালিকানা দেওয়া হয়েছে বাড়ির প্রবীণ মহিলাদের।
প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনার: ৮২ কোটি মানুষকে প্রতি মাসে বিনামূল্যে রেশন প্রদান।
জল জীবন মিশন ও পিএম কিষাণ: ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল ও কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ।
পরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব জোয়ার
মোদী সরকারের ১২ বছর এর অন্যতম বড় সাফল্য দৃশ্যমান হয়েছে দেশের পরিকাঠামোগত রূপান্তরে। ২০১৪ সালে যেখানে জাতীয় সড়ক ছিল ৯১,২৮৭ কিলোমিটার, আজ তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৪৬ লাখ কিলোমিটারে। দৈনিক রাস্তা নির্মাণের গতি ১১.৬ কিমি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৪ কিমি।
যোগাযোগ ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলি হলো:
রেলওয়ের আধুনিকীকরণ: ৯৯.৪%-এর বেশি ব্রডগেজ লাইনের বিদ্যুতায়ন এবং ১৬৪টিরও বেশি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চলাচল।
উড়ান যোজনা: দেশের বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে বেড়ে ১৬৪ পার করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষও বিমানে চড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মেক ইন ইন্ডিয়া ও পিএলআই স্কিম: ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ২০১৪ সালের ১.৯ লাখ কোটি থেকে বেড়ে ১১.৩ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভারত আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল প্রস্তুতকারক দেশ।
সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের লক্ষ্য
উন্নয়নের পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করা মোদী সরকারের অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ৫০০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ, কাশী বিশ্বনাথ করিডোর এবং কেদারনাথ ধামের পুনর্নির্মাণ কোটি কোটি ভারতীয়র আস্থার সম্মান বাড়িয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে এখন "রাষ্ট্রবাদী ডবল ইঞ্জিন সরকার" তৈরি হয়েছে। মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্রিয় হয়েছে। দিল্লির সাথে সমন্বয় রেখে প্রতিটা দফতর রাজ্যের পুনর্নির্মাণে একাধিক নতুন চুক্তি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও 'বিকশিত ভারত' গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল সংকল্প।





