DI Desk: ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে পর্যটন শিল্পকে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা জানাল নীতি আয়োগ। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নীতি আয়োগের সহ-উপাধ্যক্ষ সুমন বেরি দেশের প্রতিটি রাজ্যকে অন্তত একটি করে 'বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র' বা 'World-class Destination' গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার এখনই সঠিক সময়।
'দিব্য ভারত' এবং পর্যটনের ভবিষ্যৎ
শুক্রবার "Divya Bharat: A Window to the Soul of India" শীর্ষক একটি বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করার সময় সুমন বেরি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পর্যটন খাত কেবল ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটায় না, বরং এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎস। এই রিপোর্টে ভারতের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের এক বিশাল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বদরবারে ভারতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম।
দীর্ঘ অবস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
সুমন বেরি তাঁর বক্তব্যে একটি বিশেষ দিকে আলোকপাত করেছেন—তা হলো পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান (Longer Tourist Stays)। বর্তমানে অনেক পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীরা স্বল্প সময়ের জন্য আসেন এবং দ্রুত ফিরে যান। নীতি আয়োগের লক্ষ্য হলো, প্রতিটি রাজ্যে এমন পরিকাঠামো এবং আকর্ষণ তৈরি করা, যাতে দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা সেখানে দিনের পর দিন থাকতে আগ্রহী হন।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ পর্যটন (Domestic Tourism) এবং ধর্মীয় পর্যটন (Religious Tourism) ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ অবস্থানের ধারণাটি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। যদি একজন পর্যটক কোনো স্থানে বেশি সময় কাটান, তবে স্থানীয় হোটেল, পরিবহন, হস্তশিল্প এবং খাদ্য শিল্পের সাথে জড়িত মানুষজন সরাসরি উপকৃত হন। এটি স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রাজ্যের ভূমিকা
নীতি আয়োগের এই প্রস্তাবনা সফল করতে রাজ্য সরকারগুলোর ভূমিকা হবে অপরিসীম। প্রতিটি রাজ্যকে তাদের নিজস্ব শক্তি এবং বিশেষত্ব চিহ্নিত করতে হবে। পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপত্য—যেকোনো একটি ক্ষেত্রকে বেছে নিয়ে সেটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন:
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: সড়ক, রেল এবং বিমানপথের আধুনিকায়ন।
নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা: পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা।
ডিজিটাল প্রচার: বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক বিপণন কৌশল গ্রহণ করা।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করলে তার সুফল সমাজের একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। একজন পর্যটক যখন দীর্ঘ সময় কোনো স্থানে থাকেন, তখন গাইড থেকে শুরু করে ছোট দোকানি—সবার আয়ের পথ প্রশস্ত হয়। সুমন বেরির এই আহ্বান যদি রাজ্যগুলো গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে চলে আসবে।
পরিশেষে, "দিব্য ভারত" বা "ঐশ্বরিক ভারত" গড়ার যে স্বপ্ন নীতি আয়োগ দেখছে, তার মূল ভিত্তি হলো গুণগত মান এবং আতিথেয়তা। প্রতিটি রাজ্য যদি একটি করে বিশ্বমানের কেন্দ্র তৈরি করতে পারে, তবে তা কেবল রাজ্যের নয়, সমগ্র ভারতের অর্থনীতির রূপরেখা বদলে দেবে।





