ভারতজুড়ে সবুজ শক্তির এক অভূতপূর্ব বিপ্লব শুরু হয়েছে । ছাদ সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর লক্ষ্যমাত্রাও স্থির হয়েছে। কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফ্ত বিজলি যোজনা’ মাত্র দুই বছরে দেশের জ্বালানি মানচিত্র বদলে দিচ্ছে ইতিমধ্যেই । সম্প্রতি নতুন ও নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী প্রহ্লাদ জোশী ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৭৫ লক্ষ পরিবারে রুফটপ সোলার বা ছাদ সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে । তবে ইতিমধ্যে ৪০ লক্ষেরও বেশি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন

ছাদ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প কী এবং এর অগ্রগতি

প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফ্ত বিজলি - এই যোজনা মূলত চালু করা হয়েছিল দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে। বিশেষ করে যাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার ১ কিলোওয়াট (1 kW) থেকে ৩ কিলোওয়াটের (3 kW) মধ্যে, তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন । সরকারি তথ্য বলছে , ইতিমধ্যেই সারা দেশ জুড়ে ৬৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে । এর মধ্যে এই চলতি বছরের মে মাসটি ছিল সবচেয়ে সফল, যেখানে মাত্র এক মাসে রেকর্ড ৩.১৬ লক্ষ ইনস্টলেশন হয়েছে এবং শুধু একদিনেই ১৫,০০০ নতুন পরিবার যুক্ত হয়েছে ।

ইউটিলিটি-লিঙ্কড অ্যাগ্রিগেশন (ULA) মডেলের ভূমিকা

মূলতঃ অনগ্রসর ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর কাছে দ্রুত সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দ্যেশ্যেই কেন্দ্র ইউটিলিটি-লিঙ্কড অ্যাগ্রিগেশন (ULA) মডেল চালু করেছে । এই মডেলে রাজ্য স্তরের বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা বা ইউটিলিটিগুলো সরাসরি যুক্ত থেকে কাজে আরো গতি এনেছে । ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে এই মডেলেই প্রায় ৩০ লক্ষ ছাদ সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে । এর ফলে গ্রাহকদের হয়রানি কমবে এবং দ্রুত আবেদন মঞ্জুর হবে ।

গ্রাহকদের সরাসরি সাশ্রয় ও ভর্তুকি

এই প্রকল্পের বড় সুবিধা আর্থিক সাশ্রয়। দেশের প্রায় ১৭ লক্ষেরও বেশি পরিবার এখন ‘শূন্য বিদ্যুৎ বিল’ বা জিরো ইলেকট্রিসিটি বিলের সুবিধা পাচ্ছে । সরকার এ পর্যন্ত ২২,৭৫০ কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে । শুধুমাত্র মে ২০২৬ মাসেই ২,৭৪৩ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়েছে । আগে যেখানে প্রতি মাসে মাত্র ৭,০০০ ইনস্টলেশন হতো, আজ তা বেড়ে মাসে ৩ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে ।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ২০৪৭ সালের লক্ষ্য

দেশের এই সৌর বিপ্লব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই নয়। বরং বিশাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (CEEW)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সেক্টরে রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য প্রতি বছর ৩.৩ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে । কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশা, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ছাদ সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে এবং এটি একটি গণআন্দোলনে রূপ নেবে । ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ৫০০ গিগাওয়াট (500 GW) অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের যে লক্ষ্য রয়েছে, এই প্রকল্প তা পূরণে প্রধান ভূমিকা রাখবে ।

Democratic Indians Premium