পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির ফের একবার গর্ব করার দিন। পদার্থ বিজ্ঞানে দেশের নাম বড় বড় করে লিখে দিলেন Physics এর বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডঃ অশোক সেন। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মঞ্চে String Theory বা রজ্জু ত্বত্ত নিয়ে ডঃ সেনের যে গবেষনা ও তার সফলতাই এনে দিল বিজ্ঞান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা Oskar Klein Medal।

এই ঐতিহাসিক ঘটনা কেবল বিশ্ববিজ্ঞান চর্চায় ভারতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেনি, বরং উদীয়মান তরুণ গবেষকদের জন্যও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পাশাপাশি আত্মবিস্মৃত হতে চলা বাঙালির নতুন করে অনুপ্রেরনা পাওয়ার দিন । গর্বের দিন।

স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় (Stockholm University) এবং দ্য রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (The Royal Swedish Academy of Sciences)-এর অস্কার ক্লাইন সেন্টার যৌথভাবে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক স্তরে পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রাখা শীর্ষ বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীদের এই মেডেলে ভূষিত করে।

String Theory , S-duality ও শূণ্য গহ্বর নিয়ে ডঃ সেনের বিস্তৃতি

পদার্থবিজ্ঞানের জটিলতম শাখা হিসেবে বিবেচিত স্ট্রিং থিওরি বা রজ্জু তত্ত্ব (String Theory)। এই ক্ষেত্রে ড. অশোক সেনের গবেষণা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও প্রশংসিত। তাঁর উদ্ভাবিত ‘এস-ডুয়ালিটি’ (S-duality) ধারণা স্ট্রিং থিওরির গাণিতিক সমীকরণগুলোকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

এছাড়া, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের এন্ট্রপি সঠিক গণনার (Precise counting of black-hole entropy) ক্ষেত্রে তাঁর গাণিতিক সূত্রাবলী আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জগতে এক নতুন আলোর দিশা দেখায়। পরবর্তীতে ‘স্ট্রিং ফিল্ড থিওরি’ (String Field Theory)-র আধুনিক রূপায়ণেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং অ্যালবার্ট আইন্সটাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের (General Relativity) মধ্যে সংযোগ স্থাপনে অশোক সেনের কাজ বিশ্বব্যাপী পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছে এক পরম আকর গ্রন্থ।

কলকাতা থেকে বিশ্বজয়ের বিজ্ঞান যাত্রা

১৯৫৬ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী অশোক সেন তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। এরপর তিনি আইআইটি কানপুর থেকে স্নাতকোত্তর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রয়াত হরিশ-চন্দ্রের নামাঙ্কিত ‘হ্যারিশ-চন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (HRI), প্রয়াগরাজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা ও গবেষণা করার পর বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল সায়েন্সেস’ (ICTS-TIFR)-এর সাথে যুক্ত। এর আগেও তিনি ২০১২ সালে বিশ্বের অন্যতম দামী বিজ্ঞান পুরস্কার ‘Fundamental Physics Prize’ (ব্রেকথ্রু প্রাইজ), ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘পদ্মভূষণ’ এবং বিজ্ঞান ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ পুরস্কার ‘শান্তিস্বরূপ ভাটনাগর মেডেল’ লাভ করেছেন।

democraticindians.in এর দৃষ্টিতে ভারতের বিজ্ঞান চর্চা

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি বিজ্ঞানী Oskar Klein Medal লাভের এই স্বীকৃতি ভারতের মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার জন্য এক পরম গৌরবময় মুহূর্ত। democraticindians.in মনে করে, দেশের সার্বিক অগ্রগতি কেবল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং মৌলিক গবেষণা ও বিজ্ঞান চর্চার বিকাশের ওপর নির্ভর করে। ড. সেনের এই বিশ্বজয় প্রমাণ করে যে সঠিক নিষ্ঠা, সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বিশ্বের যে কোনো জটিলতম গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।

Democratic Indians Premium