DI Desk : দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে দক্ষিণ কলকাতার বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport) ফের সচল ও বাণিজ্যিকভাবে কর্মক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে তৎপর হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রবিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী শ্রী রামমোহন নাইডু মহাশয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এই বিমানবন্দরটি চালু করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উদ্যোগী হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ আনুষ্ঠানিক ডি.ও. চিঠি (D.O. No. CMO/47/26) পাঠিয়েছেন। এই জোরালো পদক্ষেপে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতার অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এয়ার ট্রাফিক হ্রাস এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রসার

বিশ্লেষকদের মতে, বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport) সচল হলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (NSCBI Airport)-এর ওপর থেকে যাত্রী ও ফ্লাইটের অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি, দক্ষিণবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি এক বিপ্লব ঘটাবে। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াত দ্রুততর করার পাশাপাশি এই অঞ্চলের শিল্পায়ন, বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করবে। আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির সরকারি 'উড়ান' (UDAN) প্রকল্পের আওতায় এই বিমানবন্দরটিকে নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণ, নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র প্রদানে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বেহালা বিমানবন্দর চালুর রূপরেখা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ চিঠি

মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী গত ১৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে পাঠানো তাঁর চিঠিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামমোহন নাইডুকে স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, বেহালা বিমানবন্দরটিতে বর্তমানে ৯১৫ মিটার দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে। এই রানওয়েটি এয়ারবাস বা বড় বিমান না হলেও ATR-72 প্যাসেঞ্জার এয়ারক্রাফ্ট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একটি ড্রোন সার্ভের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিমানবন্দর চত্বরে কলকাতা ব্লকের অন্তর্গত গোপালপুর, বেহালা এবং পোরুই—এই তিনটি মৌজা মিলিয়ে মোট ২১৫.৫৮৭৫ একর জমি রয়েছে। ফলে পরিকাঠামোগত কোনো বড় বাধা ছাড়াই বিমান পরিষেবা শুরু করার বিশাল সুযোগ এখানে বিদ্যমান।

অর্থনৈতিক বিকাশ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

দক্ষিণ কলকাতার এই বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে বেহালা ও তার আশপাশের এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বহু তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরাও এই উদ্যোগে অত্যন্ত আশাবাদী। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দী থাকা এই প্রজেক্টটি এখন বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগোনওয় সর্বস্তরে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁর এই ইতিবাচক বৈঠকের পর দ্রুত সেন্ট্রাল এভিয়েশন মিনিস্ট্রি ও এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে পরিদর্শক দল বা যৌথ কমিটি গঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

"বেহালা বিমানবন্দর সচল করার এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, এটি দক্ষিণ কলকাতার সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের এক অন্যতম চাবিকাঠি।" — বিশেষজ্ঞ মতামত।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport) অচিরেই ডানা মেলবে এবং উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে দক্ষিণবঙ্গ—এমনটাই এখন সকলের প্রত্যাশা। ডেমোক্রেটিক ইন্ডিয়ান্স এই গুরুত্বপূর্ণ খবরের প্রতিটি আপডেট আপনাদের সামনে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর।

© ২০২৬ ডেমোক্রেটিক ইন্ডিয়ান্স পোর্টাল। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। মানসম্মত ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রতীক।

Democratic Indians Premium