নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্য বিজেপির। অর্থনৈতিক প্রগতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে শিল্পায়নের সপক্ষে বার্তা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দলের সভাপতি সবাই ছুটছেন শিল্প পতিদের দুয়ারে। একের পর এক শিল্পের বিনিয়োগের বার্তা আসলেও এ রাজ্যের দীর্ঘদিন শিল্প মন্দার করুণ দশার দিশা দেখতে এখনও অভ্যস্ত হয় নি নয়া প্রজন্ম। তবে সম্প্রতি বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা শমীক ভট্টাচার্য তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। এই বৈঠক ঘিরে রাজ্যজুড়ে শিল্পমহলে এবং রাজনৈতিক বৃত্তে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা।

বৈঠক ও আলোচনার মূল বিষয়বস্তু

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, এই বৈঠকে মূলত পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সুবিধা, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং উৎপাদনমুখী শিল্পের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা থেকে বড় শিল্পগুলি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে—এমন একটি ধারণা রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত ছিল। তবে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রমাণ করছে যে, রাজ্যের বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ টানার প্রচেষ্টা এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

শিল্প পরিকাঠামো: বন্দরের সুবিধা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা কীভাবে লগ্নিকারীদের আকৃষ্ট করছে, তা বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: বাংলাকে দেশের অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব

বাম আমল বা শেষ মমতা জমানায় যেভাবে শ্রম আন্দোলন ও শিল্প মন্দার জেরে বাংলার শিল্পায়ন হোঁচট খেয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও নমনীয় শিল্পনীতি। বিজেপির ঘনিষ্ট মহল অবশ্য বলছে এই বৈঠকে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে, তা আগামী দিনে অন্যান্য বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিকেও বাংলায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে। কর্মসংস্থানের অভাব ঘুচাতে এবং যুবসমাজকে রাজ্যে ধরে রাখতে এই ধরনের শিল্পবান্ধব পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

তবে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতির আলোচনা, একাধিক বানিজ্য গোষ্ঠীর সঙ্গে আলাপ এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যেমন দেয় তেমন দলগত রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার সার্বিক উন্নয়নে এই উদ্যোগ এক ইতিবাচক বার্তাও বটে ।

Democratic Indians Premium