রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের এক রোমাঞ্চকর দিক বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হতে চলেছে। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি ‘গল্পগুচ্ছ’ থেকে বাছাই করা ৮টি হাড়হিম করা অতিপ্রাকৃত গল্প নিয়ে প্রকাশিত হলো নতুন ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ হররস নেক্সট ডোর (Horrors Next Door)। বিশিষ্ট বেস্টসেলার লেখক প্রসূন রায় (Prasun Roy) এই কালজয়ী গল্পগুলিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ইংরেজিভাষী পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট! পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত এই বইটি রবীন্দ্রনাথের ‘ম্যাঁকাব্র’ বা ভৌতিক ঘরানার গল্পের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংকলন।
এক মলাটে কালজয়ী রহস্যের স্বাদ
হররস নেক্সট ডোর সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে ‘মণিহারা’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘নিশীথে’, ‘কঙ্কাল’, ‘গুপ্তধন’, ‘সম্পত্তি সমর্পণ’, ‘জীবিত ও মৃত’ এবং ‘শাস্তি’। উল্লেখ্য, এই তালিকার ‘মণিহারা’ গল্পটি নিয়ে কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬১ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘তিন কন্যা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। বাকি গল্পগুলোর অধিকাংশই এই প্রথমবার বিশ্বজুড়ে অ-বাঙালি পাঠক ও নতুন প্রজন্মের কাছে এমন আধুনিক সংকলিত রূপে পৌঁছাতে চলেছে।
অনুবাদ শৈলী ও রবীন্দ্র-সাহিত্যের আধুনিক রূপান্তর
প্রসূন রায় তাঁর অনুবাদে রবীন্দ্রনাথের মূল গল্পের আত্মাকে অক্ষুণ্ণ রেখেও সমসাময়িক পাঠকদের উপযোগী একটি আধুনিক ভাষাভঙ্গি ব্যবহার করেছেন। কবির অতিপ্রাকৃত কাহিনীগুলোতে যে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকে, তা ইংরেজিতে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু লেখক এখানে সফলভাবে সেই ভয়ের আবহ বা 'অ্যাম্বিয়েন্স' তৈরি করতে পেরেছেন। বিশেষ করে 'ক্ষুধিত পাষাণ'-এর সেই হাহাকার কিংবা 'মণিহারা'-র গয়নার অলৌকিক শব্দ পাঠকদের হাড়হিম করা রোমাঞ্চ দেবে। এই অনুবাদ কেবল ভাষার রূপান্তর নয়, বরং বিশ্বসাহিত্যের দরবারে রবীন্দ্রনাথের অন্ধকার ও রহস্যময় প্রতিভাকে নতুন করে তুলে ধরার এক সাহসী প্রয়াস।
লেখক ও অনুবাদক প্রসূন রায়ের কৃতিত্ব
বেস্টসেলার লেখক প্রসূন রায় তাঁর সাবলীল ও সহজবোধ্য লেখনীর জন্য পরিচিত। আইআইএম লখনউ-এর এই প্রাক্তনী এর আগে জীবনী, অপরাধ থ্রিলার এবং ইতিহাস নিয়ে একাধিক জনপ্রিয় বই লিখেছেন। টাটা স্টিল কলকাতা লিটারারি মিট-এর মতো নামী মঞ্চে বক্তা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি এবং তাঁর গল্পের চলচ্চিত্রায়ন তাঁর সাহিত্যিক দক্ষতার প্রমাণ দেয়। পেশায় ওষুধ শিল্পে যুক্ত থেকেও প্রসূন যেভাবে রবীন্দ্রনাথের কঠিন বাংলা শব্দগুলিকে সহজ অথচ গম্ভীর ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
কেন এই বইটি সংগ্রহে রাখবেন?
বর্তমান প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের রহস্যময় জগতকে পৌঁছে দেওয়াই এই বইটির মূল উদ্দেশ্য। গত ৮ই মে সাউথ সিটি মলের স্টারমার্কে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির শুভ মুক্তি ঘটেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী, সুদেষ্ণা রায় এবং অধ্যাপক অশোক বিশ্বনাথনের মতো ব্যক্তিত্বরা। রহস্য, ভয় আর সাহিত্যের মেলবন্ধনে হররস নেক্সট ডোর বইটি পাঠকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে।





