হাজার বছরের কৃষি নির্ভর ভারতের কৃষি জমি গুলি ক্রমাগত অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং মাটির ক্ষয় আজ ভারতের কৃষিক্ষেত্রে এক গুরুতর সংকট তৈরি করেছে। চরম আবহাওয়া ও বাড়তে থাকা উৎপাদন খরচের মুখে পড়ে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা প্রতিদিন নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতীয় কৃষিব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি (Regenerative Agriculture)। এটি কেবল ক্ষয়প্রাপ্ত মাটির প্রাণ ফিরিয়ে আনছে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কৃষিকে আরও প্রতিরোধী করে তুলছে।
Regenerative Agriculture কৃষি কী এবং কেনো ?
আসলে আমরা গত কয়েক বছরে কার্বন ক্রেডিট , কার্বন সঞ্চয় এই শব্দ গুলো শুনলেও তেমন একটা আমল দিই নি । কেনো না দেশের কৃষি ব্যবস্থার প্রভাব যে কতটা আম জনতার খাদ্য স্বাধীনতায় পড়তে চলেছে তা ভাবতেই সময় লেগে গেল । তাই আজ জানাটা দরকার এই ধরনের কৃষি কি করবে ?
Regenerative Agriculture একটি পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি যা মাটির ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। সাধারণ বা প্রচলিত কৃষিকাজের বিপরীতে হেঁটে এই পদ্ধতি মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন সঞ্চয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়।
Regenerative Agriculture এর প্রধান নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাটির উপরিভাগকে সর্বদা ফসলের অবশিষ্টাংশ বা কভার ক্রপ দিয়ে ঢেকে রাখা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, গবাদি পশুকে কৃষিব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং বহুবিধ ফসলের চাষ করা। স্থানীয়ভাবে তৈরি বীজামৃত, জীবামৃত এবং নো-টিলেজ (No-till) চাষের মাধ্যমে মাটির ভেতরের উপকারী অণুজীব সক্রিয় থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
Food Politics এ পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশের সামঞ্জস্য বজায় রেখে কৃষকদের টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হলো আধুনিক ভারতের এই নতুন কৃষি বিপ্লবের মূল লক্ষ্য। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, সঠিক বাস্তবায়নই আগামী দিনে ভারতীয় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে তুলবে।
Regenerative Agriculture বা পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি গ্রহণ করার ফলে একদিকে যেমন সারের খরচ কমে কৃষকের নিট আয় ও মুনাফা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পদ্ধতিতে সুস্থ মাটি বেশি পরিমাণে জল ধরে রাখতে পারে এবং বাতাস থেকে কার্বন শুষে নিয়ে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করে।
সরকারি উদ্যোগ ও নীতিগত সহায়তা
ভারতের কৃষিক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তরান্বিত করতে ভারত সরকার একাধিক প্রশংসনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ‘জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন’ (National Mission on Natural Farming) এবং ‘পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা’ (PKVY)-র মাধ্যমে লাখ লাখ কৃষককে প্রাকৃতিক কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে, ‘পার ড্রপ মোর ক্রপ’ (PDMC) প্রকল্পের মাধ্যমে ড্রিপ ও স্প্রিংকলার সেচ ব্যবস্থার প্রসারে জলের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি, ‘সয়েল হেলথ কার্ড’ (Soil Health Card) স্কিম কৃষকদের জমির পুষ্টি উপাদান বুঝে সুষম সার ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
তবে এই Regenerative Agriculture এর উদ্যোগ দেরিতে হলেও চলতি সরকার এর এমন উদ্যোগ সাধুবাদের যোগ্য। তবে সরকারি উদ্যোগের কার্যকরী দিকটি সফল হলো কিনা তা দেশের food politics এ সক্রিয় মানুষজন নজর রাখবেন।





