বিশেষ সংবাদদাতাঃ ভারতকে সমৃদ্ধ করেছে দেশের ভুমিপুত্র। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হলো আদিবাসী সমাজ। তাদের "আদিবাসী জীবন" যাত্রার মানোন্নয়ন এবং ঐতিহ্য রক্ষায় এবার হাতিয়ার আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। রবিবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ‘সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ইন্টারভেনশন – প্রিজার্ভিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ফেইথ অ্যান্ড কালচার’ শীর্ষক এক বিশেষ সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণান।
বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
এদিন সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, বিজ্ঞানমনস্কতা যখন প্রাচীন লোকজ জ্ঞান বা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা সমাজ রক্ষায় এক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। তাঁর মতে, আধুনিক বিজ্ঞান এবং আদিবাসীদের ভাষা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং তারা একে অপরের পরিপূরক।
আদিবাসী উন্নয়নে সরকারি রোডম্যাপ: ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'বিকশিত ভারত @ ২০৪৭' স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে শ্রী রাধাকৃষ্ণান জানান, সরকারের মূল মন্ত্র হলো ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ (উন্নয়নও হবে, ঐতিহ্যও রক্ষা হবে)। ভারতজুড়ে প্রায় ১.৪ লক্ষ আদিবাসী গ্রাম রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ও উল্লেখযোগ্য তথ্য:
আদিবাসী প্রতিভা: উপ-রাষ্ট্রপতি আদিবাসীদের টেক্সটাইল, ডিজাইন এবং রঙের ব্যবহারিক জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পিএম-জনমন (PM-JANMAN): এই প্রকল্পের অধীনে আদিবাসী এলাকায় ২,৪০০টির বেশি রাস্তা এবং ১৬০টিরও বেশি সেতু তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ধরিত্রি আবা অভিযান: ৬৩,০০০ আদিবাসী গ্রামে পানীয় জল, আবাসন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই প্রকল্প কাজ করছে।
অটল বিহারী বাজপেয়ী ও বীরসা মুণ্ডার স্মরণ
উপ-রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর অবদান স্মরণ করেন, যিনি পৃথক ‘আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক’ গঠন করেছিলেন। পাশাপাশি ভগবান বীরসা মুণ্ডার জন্মস্থান উলিলহাতু পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
দোয়ুন সংস্কৃতি স্কুলের ২৫ বছর
উত্তরাখণ্ডের আইটিআইটিআই (ITITI) দোয়ুন সংস্কৃতি স্কুলের রজত জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান তিনি। ২৫ বছর আগে অটল বিহারী বাজপেয়ী এই স্কুলের উদ্বোধন করেছিলেন। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারত ও লাদাখের প্রায় ২,০০০ আদিবাসী পড়ুয়া এখানে বিনামূল্যে গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছে।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর শ্রী তরণজিৎ সিং সান্ধু, অরুণাচল প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী চৌনা মেইন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব অধ্যাপক অভয় করন্দিকর এবং স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সাংসদ শ্রী তরুণ বিজয়।
উপসংহার:
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আদিবাসীদের প্রাচীন জ্ঞান আজ বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের এই জীবনধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে আর্থিক সমৃদ্ধি আনা সম্ভব—এটাই ছিল আজকের সম্মেলনের মূল সুর।

