শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক আজ নবান্নে সম্পন্ন হলো, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম এই বৈঠকেই রাজ্যের প্রশাসনিক দিশা, সুশাসন, এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যের উন্নয়ন এখন থেকে 'ডাবল ইঞ্জিন সরকারের' হাত ধরে জাতীয় মূলস্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কিষাণ বীমা যোজনা, পিএম শ্রী, এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সুবিধা পৌঁছাবে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের দোরগোড়ায়।
কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক সংস্কার
রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই ক্যাবিনেট বৈঠকে। এর পাশাপাশি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই সরকার আমিত্বে নয়, নীতিতে চলে।"
সীমান্ত সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা
সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পূর্বতন সরকারের আমলে যে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এছাড়াও, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার মাধ্যমে রাজ্যের আইনি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা
বর্তমানে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক কল্যাণকর প্রকল্প সচল থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। কোনো মৃত ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারী যাতে অবৈধভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার।
পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “ভয় আউট, ভরসা ইন” বার্তার পুনরাবৃত্তি করে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে থাকার এবং উন্নয়নের শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক হিংসামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়াই যে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য, তা এদিন তাঁর বক্তব্যে আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল।





